উজ্জ্বল ত্বক পেতে জেনে নিন চমৎকার কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের উপকারিতা

দাগহীন উজ্জ্বল ত্বক পেতে কে না চায়? যদি আপনি উজ্জ্বল ত্বক পাবার টিপসগুলো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে চেষ্টা করেন তাহলে দ্রুতই করতে পারেন এই সমস্যার সমাধান!

ইন্দ্রাণী ঘোষ সেপ্টেম্বর 11, 2017 at 8:00

উজ্জ্বল ত্বক পেতে তো আমরা সবাই চাই। কিন্তু চাওয়াটাই সার হয়। উজ্জ্বল, দাগহীন ত্বক পাওয়া অধিকাংশ সময়েই আমাদের আয়ত্তের বাইরে থেকে যায়। টিভিতে যেসমস্ত ফেয়ারনেস ক্রিম বা হোয়াইটেনিং ক্রিমের অ্যাড দেখায় সেগুলো বেশীরভাগ সময়েই কাজ করে না। বরং প্রলোভনে পড়ে কিনে ব্যবহার করার পর দেখা গেছে ত্বক খসখসে রুক্ষ হয়ে গেছে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান পেতে হয়ত একটু সময় লাগে। উজ্জ্বল ত্বক পাবার টিপসগুলো জানলে চমৎকারভাবে করতে পারেন ত্বকের সমস্যার সমাধান।  ত্বকের ক্ষতিরও সম্ভাবনা থাকে না এমন উপকারী ৮টি ঘরোয়া উপাদানের  উপকারিতা চলুন জেনে নেওয়া যাক। এই ৮টি উপাদানের যেকোনো একটি বা দুটি আপনি ট্রাই করতে পারেন। যেটি কাজে দেবে সেটি নিয়মিত ব্যবহার করুন।

উজ্জ্বল ত্বক

মধু 

আমাদের ত্বক রাস্তার ধুলো, দূষণের ফলে তার স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে ফেলে। এছাড়া ত্বকে নানারকম সমস্যাও দেখা দেয়। এর থেকে মুক্তি পাবার জন্য মধু খুবই কাজে দেয়। মধু ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখে। এছাড়া মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি ত্বককে ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে বাঁচায় ও ত্বককে ইনফেকশন, দাগ ও ব্রণর হাত থেকে রক্ষা করে। মধু আপনি সরাসরি ত্বকে লাগাতে পারেন। শুকিয়ে যাবার পর হালকা গরম জলে তুলো ভিজিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। মধু ত্বককে নরম করে। এছাড়া দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়েও লাগাতে পারেন মুখে। একদিন ছাড়া একদিন এটা মুখে লাগান। দেখবেন উপকার পাচ্ছেন।

হলুদ 

হলুদে প্রচুর পরিমাণে কারকিউমিন থাকে যা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে। হলুদ ত্বকের কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ায়। হলুদ ত্বককে উজ্জ্বল ও নরম করে ও ময়লা, ব্যাকটেরিয়াকে দূর করে ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে। ১ চামচ কাঁচা হলুদবাটা, ১ চামচ বেসন ও দুধ দিয়ে একটা ফেসপ্যাক তৈরি করুন। মুখে এটা ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে তারপর ধুয়ে ফেলুন। রোজ এই ফেসপ্যাকটি মুখে যদি লাগাতে পারেন দেখবেন আপনার মুখ খুব তাড়াতাড়ি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।

অ্যালোভেরা  

অ্যালোভেরা 

মুখে মাখার বিভিন্ন ক্রিমে অ্যালোভেরা খুব কমন একটা উপাদান। অ্যালোভেরার মধ্যে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে যা ব্রণ দূর করে, ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে ত্বককে ঠাণ্ডা করে ও আরাম দেয়। অ্যালোভেরা পাতার থেকে তার জেল নিয়ে সরাসরি মুখে তুলোর সাহায্যে ভালো করে লাগিয়ে নিন। আধঘণ্টা রেখে দেবার পর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার ত্বক মসৃণ ও নরম হয়ে উঠছে ও তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্যও আবার ফিরে পাচ্ছে।

লেবু 

পাতিলেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের মরা চামড়া দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং লেবুর রসে থাকা ভিটামিন সি ত্বককে দাগমুক্ত করে। তাছাড়া লেবুর রসের প্রাকৃতিক ব্লিচিং গুণ আছে যা ত্বককে উজ্জ্বল করে। পাতিলেবুর রস নিয়ে তুলো দিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট রাখার পর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া পাতিলেবুর রস ও মধু একসাথে মিশিয়ে মুখে মাখতে পারেন। একদিন ছাড়া একদিন নিয়ম করে এটা করে যান। দেখবেন কয়েকদিনের মধ্যেই ত্বকের ঔজ্জ্বল্যর পার্থক্য বুঝতে পারবেন। চিনি আর লেবুর রস নিয়ে স্ক্রাব তৈরি করেও সপ্তাহে একদিন মুখে লাগাতে পারেন। এটা আপনার মুখের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করবে।

বেকিং সোডা 

বেকিং সোডা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বকের স্বাভাবিক পি.এইচের মাত্রা বজায় রাখে। ফলে আমাদের ত্বক পরিষ্কার থাকে। বেকিং সোডা ব্রণ, দাগ ইত্যাদি সমস্যারও সমাধান করে। ১ চামচ বেকিং সোডা জল বা লেবুর রসে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া মধু ও বেকিং সোডার পেস্ট বানিয়ে মুখে মেখে ভালো করে ম্যাসাজ করে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন এটা ট্রাই করে দেখুন।

শসা 

শসা ত্বককে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা করে ও ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া শসা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সারায় ও মৃত কোষ দূর করে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জলতাকে ফিরিয়ে আনে। শসার একটা স্লাইস কেটে সারা মুখে ভালো করে তার রসটা লাগান। সারারাত রেখে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালবেলা হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি রোজই আপনি করতে পারেন। এছাড়া শসা ও পাতিলেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে মাখুন। তাতেও ফল পাবেন।

পাকা পেঁপে  

পাকা পেঁপে  

পাকা পেঁপের মধ্যে প্যাপেইন থাকে যা ত্বকের মরা চামড়াকে দূর করে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে। ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ত্বকের মধ্যে থাকা তেল ও ময়লা অনেকসময় ব্রণর কারণ হয়। পেঁপে সেই তেল ও ময়লা দূর করে ত্বককে পরিষ্কার রাখে। পাকা পেঁপে, মুলতানি মাটি ও মধু নিয়ে ভালো করে একটা পেস্ট তৈরি করুন ও মুখে লাগান। ২০-২৫ মিনিট রেখে দেবার পর ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া পাকা পেঁপে এমনিও পেস্ট করে লাগাতে পারেন।

গ্রিন টি 

গ্রিন টির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে যা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। এছাড়া গ্রিন টি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করে ত্বককে উজ্জ্বল করে ও ত্বককে বয়স বাড়ার হাত থেকে বাঁচায়। গ্রিন টির পাতা জলে ফুটিয়ে চিনি ও ক্রিম মিশিয়ে মুখে মাখুন। ও ভালো করে ১০-১৫ মিনিট ধরে স্ক্রাব করুন। এই ফেসপ্যাকটি আপনার মুখের মরা চামড়া দূর করে মুখের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনবে। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এটা নিয়ম করে করলে খুব তাড়াতাড়িই উপকার পাবেন।

এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান। ভিটামিন ও মিনারেলস যুক্ত শাক-সবজি আপনার ডায়েটে ইনক্লুড করুন। প্রচুর ফল খান। ভাজাভুজি ও তেল-মশলাওয়ালা খাবার না খাবার চেষ্টা করুন। আর রাতে ভালো করে ঘুমোন। স্ট্রেস ও টেনশন থেকে মুক্ত থাকুন। দেখবেন আপনার ত্বকের ঔজ্জ্বল্য কেমন স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসে।

মুখের কালো ছোপকে এক সপ্তাহে বলুন টাটা

সান ট্যান সরান মাত্র দু সপ্তাহে

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।