মুখের কালো ছোপকে এক সপ্তাহে বলুন টাটা

মুখের কালো ছোপ দূর করার সহজ উপায় আপনাদের জন্য। অ্যাপ্লাই করুন, সাত দিনে কালো ছোপকে বলুন টাটা আর হয়ে উঠুন অপরুপা।নজর আপনার দিক থেকে কেউ ফেরাতে পারবে না।

ইন্দ্রাণী ঘোষ সেপ্টেম্বর 4, 2017 at 10:00

মুখের কালো ছোপ নিয়ে খুব ভুগছেন? লজ্জায় রাস্তায় বেরোতে পারছেন না? কেউ আপনার দিকে তাকাচ্ছেও না? অথচ পুজোর আর এক মাসও বাকি নেই। সেই চিন্তায় রাতে ঘুমও হচ্ছে না। নানা ভয়ের কোনো কারণ নেই। এই সামান্য কারণে টেনশনই বা করবেন কেন? আসুন আমরা আপনাকে বাতলে দিই আপনার মুখের কালো ছোপকে মাত্র এক সপ্তাহে দূর করার কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায়।

মুখে কালো ছোপ কেন হয়?

নানা কারণেই আপনার মুখে কালো ছোপ বা দাগ হতে পারে। রোদে অত্যধিক বেরোনো, কিছু বিশেষ হরমোনের সামঞ্জস্যের অভাব, মুখে ওয়াক্সিং করানো, প্রেগন্যান্সি, ভিটামিনের অভাব, ঘুমের অভাব ও স্ট্রেস আর টেনশন। ঠিক মতো ডায়েটের অভাব, বেশী করে জল না খেলেও কিন্তু ব্রণ ইত্যাদি ত্বকের নানা সমস্যা আপনাকে ভোগাতে পারে। আর ব্রণ হলেই কিন্তু তা আপনার ত্বকে দাগ রেখে যাবেই।

লেবুর রস

পাতিলেবুর রস কিন্তু আপনার ত্বকের কালো ছোপ দূর করার বেস্ট উপায় হতে পারে। লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান হিসেবে কাজ করে। আপনার মুখের কালো ছোপ, পিগমেন্টেশন যদি জলদি দূর করতে চান তাহলে তুলোয় করে ফ্রেশ পাতিলেবুর রস নিয়ে মুখের ওই কালো ছোপে লাগান। মিনিট কুড়ি রেখে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার মুখের কালো ছোপ কেমন হালকা হয়ে গেছে এক সপ্তাহে। সপ্তাহে রোজই নিয়ম করে মুখে পাতিলেবুর রস লাগান। দেখবেন হাতে-নাতে ফল পাচ্ছেন।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা কিন্তু ক্ষত, দাগ সারানোর প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। অ্যালোভেরার জেলে পলিস্যাকারাইডস থাকে যা নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে ও মৃত, পুরনো, ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে দূর করে। কালো ছোপ, ব্রণর দাগ, মেচেতা দূর করে। অ্যালোভেরা পাতা থেকে কিছু জেল বের করে আপনার ত্বকের কালো ছোপে লাগান। ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এরপর ১০-১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে রোজ এটা ট্রাই করুন। দেখবেন কেমন ফল পাচ্ছেন।

বাটারমিল্ক বা ছাচ

দুধ থেকে মাখন বের করার পর যে টক তরলটি অবশিষ্ট থাকে তাকে বাটারমিল্ক বা ছাচ বলে। বাটারমিল্কে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড আদতে আলফা হাইড্রক্সিল অ্যাসিড, যা মুখের মৃত কোষকে দূর করে আপনার মুখকে উজ্জ্বল করবে ও সেইসাথে মুখের কালো ছোপ দূর করার জন্যও বাটারমিল্ক অব্যর্থ দাওয়াই হিসেবে বহু প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ৪ চামচ বাটারমিল্ক ও ২ চামচ টোম্যাটোর রস একসাথে মিশিয়ে তুলোয় করে মুখে মাখুন। ১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এক সপ্তাহ নিয়ম করে এটা করার পর আপনার মুখকে আপনি নিজেই চিনতে পারবেন না।

আলু

অবাক হবেন না। আলুর প্রধান উপাদান কিন্তু স্টার্চ আর সুগার যা আপনার ত্বকের মরা চামড়া তুলে ফেলে নতুন কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাছাড়া আলুতে থাকা ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, জিংক, ফসফরাস আপনার ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে। আর ত্বকের কালো ছোপ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে ও সান ট্যানকে দূর করতেও আলুর জুড়ি নেই। একটা আলু চাকা করে কেটে আপনার মুখের কালো ছোপের স্থানে খানিকক্ষণ রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। রোজ করলে ফল পেতে আপনি বাধ্য।

হলুদ

হলুদে থাকা কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। যা আপনার মুখের কালো দাগ বা ছোপ দূর করতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ, দুধ ও লেবুর রস দিয়ে একটা ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার মুখের কালো ছোপ হালকা তো হয়েছেই, সেইসাথে আপনার মুখ উজ্জ্বলও হয়েছে। সপ্তাহে রোজ নিয়ম করে এটা করুন। উপকার পাবেন।

পাকা পেঁপে

পাকা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন উৎসেচক আপনার মুখের কালো ছোপ, ব্রণর দাগ দূর করতে সাহায্য করে। পাকা পেঁপে ও দুধ পেস্ট বানিয়ে মুখে মাখুন। ১৫-২০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সাথে সাথে ফল পাবেন।

বাদাম তেল

কাঠবাদামে প্রচুর পরিমাণে ওলেইক ও লিনোলেইক অ্যাসিড থাকে। তাছাড়া কাঠ বাদামে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড, বিভিন্ন ফাইটোস্টেরল, ভিটামিন এ, বি, ডি ও ই আপনার ত্বকের উপকারী বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। কাঠবাদামের তেল আপনার মুখের কালো ছোপ নিমেষে দূর করতে পারে তো বটেই, তাছাড়া বাদাম তেল অবাঞ্ছিত পিগমেন্টেশন দূর করে ও ত্বককে রোদে পোড়ার হাত থেকে বাঁচায়। রোজ মুখে কাঠবাদামের তেল নিয়মিত লাগান। কালো ছোপ থেকে মুক্তি পাবেন।

তাহলে আর দেরি কীসের? জেনেই তো নিলেন মুখের কালো ছোপ দূর করার সহজ উপায়গুলো। এবার অ্যাপ্লাই করুন, সাত দিনে কালো ছোপকে বলুন টাটা আর হয়ে উঠুন প্যান্ডেলের মধ্যমণি।

দাম্পত্য জীবনকে মধুময় রাখতে এই পাঁচটি খাবার এড়িয়ে চলুন

হিট লিস্ট বাংলা সিরিয়াল সেরা ৫

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।