হালাল ও হারাম মাংস এই দুইয়ের আক্ষরিক অর্থ জানা না থাকলে অবশ্যই তা জেনে রাখুন

‘হালাল’ বা ‘হারাম’ মাংসের সাথে এই দুটো শব্দকে প্রায়শই জুড়ে দেওয়া হলেও এই দুটো শব্দের আক্ষরিক অর্থ কি তা কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না। আসুন, জেনে নেওয়া যাক।

ইন্দ্রাণী ঘোষ আগস্ট 21, 2017 at 8:00

বিভিন্ন শপিং মলে প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট করা মাংসের গায়ে অনেক সময়েই লেখা থাকে দেখবেন ‘হালাল’। বিভিন্ন বড় বড় রেস্তোরাঁর বাইরেও দেখবেন বোর্ড টাঙ্গানো থাকে ‘এখানে হালাল মাংস পাওয়া যায়’। ‘হালাল’ বা ‘হারাম’ মাংসের সাথে এই দুটো শব্দকে প্রায়শই জুড়ে দেওয়া হলেও এই দুটো শব্দের আক্ষরিক অর্থ কি তা কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না। আসুন, দেখে নেওয়া যাক কাকে বলে ‘হালাল মাংস’ ও কাকে বলে ‘হারাম মাংস’, এবং কী এদের তফাৎ।

মাংস কাটা

হালাল ও হারাম কি

আপনারা অনেকেই জেনে থাকবেন যে ইসলাম ধর্মে হালাল মাংস খাওয়াই আইনসম্মত। হারাম মাংস খাওয়া সে ধর্মে পাপ বলে গণ্য হয়। ইসলামী আইন অনুযায়ী হালাল কথার অর্থ হল যা আইনসম্মত, বৈধ, উপকারী ও কল্যাণকর যা আল্লাহ খাবার জন্য বিধান দিয়েছেন। আর হালালের উল্টোদিকেই সেখানে রাখা হয় হারামকে—হারাম কথার অর্থ হল নিষিদ্ধ বা যা আইনসম্মত নয়, অপবিত্র। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী যে মাংস ‘বিশুদ্ধ’ নয়, তাকেও আমরা হারাম মাংস বলতে পারি।

হালাল মাংসের প্রক্রিয়া 

হালাল মাংস

হালাল মাংসের ক্ষেত্রে পশুটিকে জবাই করার একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে, যা অনুসরণ করলে সেই পশুর মাংসকে আমরা হালাল মাংস বলতে পারি। এই পদ্ধতিতে ধারালো ছুরি দিয়ে পশুটির গলার কাছে গভীর করে কাটতে হবে, যাতে তার ক্যারোটিড ধমনী, ট্র্যাকিয়া ও জুগুলার শিরা কেটে যায় এবং তার মাথাটি জবাই করার সময় কাবার দিকে ফেরানো থাকে। জবাই করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বা ঈশ্বরের নাম নিয়ে পশুটিকে জবাই করতে হবে এবং জবাই করার আগে অবধি পশুটি যাতে তা টের না পায়, সেজন্য তাকে নানারকম পদ্ধতিতে অসাড় করে দেওয়া হয়। যেমন ইউরোপের কসাইখানাগুলিতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে তাকে অসাড় করে দেওয়া হয়। জবাই করার আগে পশুটিকে ভালো করে খাইয়েদাইয়ে তাকে বিশ্রামও দেওয়া হয়। হালাল পদ্ধতিতে জবাই একমাত্র মুসলিমরাই করতে পারেন। জবাই করার পর সমস্ত রক্ত যাতে শিরা দিয়ে বেরিয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

হারাম মাংস

ইসলাম ধর্মে পশুর রক্ত খাওয়া পাপ। শুকর, কুকুর, বেড়াল, বাঁদর প্রভৃতির মাংসকে ইসলাম ধর্মে হারাম মাংস বলে এবং এই সমস্ত পশুর মাংস কেবলমাত্র দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি এমারজেন্সির সময়েই একান্ত দরকার থাকলে খাওয়া যেতে পারে। পশুটিকে যদি হালাল মাংসের প্রক্রিয়ায় জবাই করা না হয়, তাহলে সেই মাংসকে হারাম মাংস বলা হয়। তাছাড়া জবাই করার আগে যদি ঈশ্বরের নাম না নেওয়া হয়, তাহলেও সেটি হারাম বা নিষিদ্ধ মাংস বলেই গণ্য হয়। তাছাড়া মৃত পশু, যা আগে থেকেই মারা গেছে, বা শ্বাসরোধ করে ও মেরে হত্যা করা হয়েছে, বা পাথরের ওপর জবাই করা হয়েছে সেরকম পশুর মাংসও ইসলাম ধর্মে হারাম বলে গণ্য হয়। এ সম্পর্কে কোরানে সুস্পষ্ট নির্দেশও দেওয়া আছে।

কিছু পরিসংখ্যান 

‘ইউ.কে. ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি’র ২০১১ সালে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় ৮৪ শতাংশ গোরু, ৮১ শতাংশ ভেড়া, ৮৮ শতাংশ মুরগীকে হালাল প্রক্রিয়াতে জবাই করা হয়েছে।

মুরগির মাংস

এছাড়া সারা পৃথিবীতেই আজকাল হালাল প্রক্রিয়ায় পশু জবাই করা হয়। হালাল প্রক্রিয়াতে জবাই করা মাংস উপকারী কিনা এ নিয়ে নানা গবেষণা আজকাল করা হচ্ছে।শুধু ইসলাম ধর্মেই নয়। খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্মেও হালাল মাংসের প্রচলন আছে।

তাহলে আজ আপনারা জেনে নিলেন হালাল মাংস ও হারাম মাংসের তফাৎ ও এরকম নামকরণের কারণ।

বাংলাদেশ বাঙালীর ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে: গর্বিত বাঙালী

কাঁচকলার ৩ টি সেরা রেসিপি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।