আমার সব বন্ধুরাই আমার হাতের রাজমা চাওয়াল খেতে খুবই ভালোবাসে। এই রেসিপিটি তাঁরাও বাড়িতে বানান, তবে তাঁদের দাবি তাঁরা আমার হাতের মতো স্বাদ পায় না। কখনও রাজমার গ্রেভি খুব ঘন হয়ে যায়, কখনও আবার গ্রেভি খুব পাতলা হয়ে যায়।
প্রত্যেকের অবশ্য রান্নার আলাদা আলাদা পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু যখন রাজমা-চাউল-এর কথা ওঠে, তখন প্রত্যেকের একজন করে পাঞ্জাবী বন্ধু থাকে যার বাড়িতে সুস্বাদু রাজমা-চাউল তৈরি হয়। তাই সকলের মনেই পাঞ্জাবী স্টাইলে রাজমা-চাউল তৈরির রেসিপি জানার একটি ইচ্ছা থাকে।
তাই এই রাজমা-চাউল তৈরির রেসিপিটা তাঁদের জন্য যাঁরা পাঞ্জাবী স্টাইলে রাজমা চাউল বানাতে চান। তবে আপনার যদি কোনও পদ্ধতি জানা থাকে, তাহলে সেটাও কমেন্ট করে আপনারা জানাতে পারেন। আমরা নতুন কিছু শিখব।
কিছু বিশেষ টিপসঃ
বাজারে বিভিন্ন ধরণের রাজমা আপনি পাবেন, তবে কাশ্মীরি রাজমা (জম্মু রাজমা) সবার সেরা। এছাড়াও আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, রাজমা যাতে খুব পুরনো না হয়।
রাজমা রান্না করার আগে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। রাজমা নরম করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ।
রাজমা রান্নার সময়, বিশেষত মশলা যোগ করার পর আঁচ সর্বদা কমিয়ে রাখুন।
রাজমা রেসিপিঃ
প্রয়োজনীয় উপকরণ
তেল- ৩-৪ টেবিল চামচ
আদা-রসুন বাটা- ১চা চামচ
পেঁয়াজ- ৪টি মাধারি মাপের
টমেটো- ২টো
রাজমা- ১ কাপ (সারা রাত ভিজিয়ে রাখা)
জিরে- ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো- 1¼ চামচ
লঙ্কা- এক থেকে দেড় চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো- ১ চামচ
নুন- স্বাদমতো
কাঁচা লঙ্কা- ২ চামচ মিহি করে কুচনো
রাজমা বানানোর পদ্ধতিঃ
ভেজানো রাজমাগুলিকে প্রেসার কুকারে দিয়ে ৪টি সিটি পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। খেয়াল রাখবেন যাতে রাজমাগুলি ভালো করে সেদ্ধ হয়ে যায়। শক্ত রাজমা খেতে মোটেই ভালোলাগবে না। অতিরিক্ত শক্ত রাজমা খেলে কিন্তু পেটটে ব্যথাও হতে পারে।
খাওয়ার আগে খেয়াল রাখতে হবে রাজমা যাতে নরম হয়। তবে আবার অতিরিক্ত সেদ্ধ হওয়া রাজমাও খেতে বিস্বাদ লাগে। অতিরিক্ত সেদ্ধ হওয়ার পর রাজমার আকারও বদলে যায়। তাই রাজমা ঠিক ততক্ষণ সেদ্ধ করবেন যতক্ষণ তা এটি নরম হয়ে আসছে এবং নিজের আকারও পরিবর্তন করছে না।
এবার পেঁয়াজ কেটে নিন এবং কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজগুলি বাদামী রঙ হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। এবার এই ভাজা পেঁয়াজ মিক্সিকে ভাল করে গ্রাইন্ড করে নিন।
টমেটো কেটে নিয়ে মিক্সারে পেস্ট করে টমেটো পিউরি বানিয়ে নিন।
কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে জিরে দিন। এরপর তাতে আদা-রসুনেপ পেস্টটা দিয়ে খানিকক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। আদা-রসুন গোল্ডেন ব্রাউন রঙ হয়ে গেলেই এর মধ্যে যাবতীয় শুকনো মশলা ( যেমন- হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে, নুন এবং গরম মশলা) দিয়ে দিন।
এরপর তাতে পেঁয়াজের পেস্টটা দিয়ে দিন। তারপর দিন টমেটো পিউরি। এবার মশলাগুলিকে অল্প আঁচে ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে এবার তাতে সেদ্ধ করা রাজমাগুলি দিয়ে দিন।
এবার এতে প্রয়োজনমতো জল মিশিয়ে নিন এবং মাঝারি আঁচে ৫ মিনিট পর্যন্ত রান্না করুন।
ওপর থেকে ধনে পাতা ছড়িয়ে দিলেই আপনার রাজমা তৈরি।
এবার এটি আপনারা সাধারণ বাসমতি চালের সঙ্গে পরিবেশন করেতে পারেন। অথবা জিরা রাইসের সঙ্গেও পরিবেশন করতে পারেন। রইল তার রেসিপি।
চাওয়ালের উপকরণঃ
চাল- ২ কাপ
তেল- ২ চামচ
নুন-স্বাদমতো
তেজ পাতা- ১টি
জিরে- ১ চামচ
জল- চার কাপ ( বা আপনার চালের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে)
প্রণালীঃ
কুকারে তেল গরম করে তাতে একে একে তেজপাতা এবং জিরে দিয়ে দিন।
এবার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে তিনটি সিটি দেওয়া পর্যন্ত রান্না করলেই আপনার জিরা রাইস তৈরি। এবার রাজমার সহযোগে এটি পরিবেশন করুন। স্যালাদ হিসাবে শসা-পেঁয়াজ এবং এক কাপ ঘোল-এর সঙ্গে জমে যাবে রাজমা চাওয়াল।